চাকরি প্রর্থীদের সমস্যা, প্রশ্ন, মতামত এবং বিভিন্ন পেশা সর্ম্পকে আলোচনা, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ
#1998
এই ঢিলেমির কারণে আপনার ক্যারিয়ার ও জীবন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।
আপনার কি কখনও এমন হয়েছে যে একটি কাজ করব করব বলে একদম শেষ ঘন্টা পর্যন্ত ফেলে রেখেছেন?
একটি কাজের জন্য ৭ দিন সময় থাকলে আপনি হয়তো ছয়দিন কোনও কাজই করলেন না, তারপর শেষ দিন হঠা‌ৎ মনে হল, আর সময় নেই। আপনি সব বাদ দিয়ে সেই কাজের পেছনে লেগে গেলেন। তারপর কোনওরকমে ডেডলাইনের আগে আগে কাজটি শেষ করলেন।
কোনও না কোনও সময়ে আমাদের প্রায় সবাই এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। অনেক সময়ে অন্য জরুরী কাজের কারণে একটি কাজ এভাবে ফেলে রেখে শেষ মূহুর্তে করা হয়। এটা হতেই পারে।
কিন্তু যদি কোনও কারণ ছাড়াই কেউ কেউ শেষ মূহুর্তের জন্য কাজ ফেলে রাখেন। সোজা বাংলায় একে বলে “ঢিলেমি”। শুদ্ধ বাংলায় “দীর্ঘসূত্রিতা”। হাতে তো সময় আছেই, পরে করলেও চলবে – এখন একটু ইউটিউবে দেখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুরগীটার গায়ের রং কি। অথবা দেখি ফেসবুকে কি নিয়ে মাতামাতি চলছে।
আপাতত ক্ষতিকর মনে না হলেও, এই ঢিলেমির কারণে আপনার ক্যারিয়ার ও জীবন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।
মানুষের ঢিলেমি করার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, এবং সব সময়ে সেই কারণ তার নিজের কাছেও পরিস্কার থাকে না। এটা হতে পারে কোনও লুকোনো ভয়, যা আমরা স্বীকার করতে চাই না, আবার হতে পারে একটি কাজ আপনি আসলে করতে চান না – কিন্তু আপনাকে করতে হবে – এই ক্ষেত্রে ঢিলেমি চলেই আসে। আবার কিছু মানুষ তাদের স্বভাবগত আলস্যের কারণে এমনটা করে। অনেকে প্রয়োজন জেনেও কাজ শেষ মূহুর্তের জন্য ফেলে রাখে, কারণ এর আগে তাদের “মুড আসেনা”।
তবে কারণ যাই হোক, আপনার মাঝে যদি এই দোষটি থেকে থাকে, তবে অবশ্যই সাবধান হতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে। তা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
এই ক্ষতি হয়তো একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু লুকিয়ে থাকা জীবাণুর মত ঢিলেমি/দীর্ঘসূত্রিতা আপনার জীবন ও ক্যারিয়ারকে শেষ করে দেবে।
ঢিলেমি বা দীর্ঘসূত্রিতার নির্দিষ্ট কারণ না থাকলেও, এর কিছু নির্দিষ্ট ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে প্রধান ৮টি ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আমরা আজ আলোচনা করব, যাতে আপনি এই দোষ দূর করার গুরুত্ব বুঝতে পারেন:

০১. আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হবে
------------------------------------
আমাদের জীবনের সাফল্য আসলে সময় ও কাজের যোগফল। আপনার হাতে থাকা সময়কে আপনি কিভাবে এবং কতটা কাজে লাগাচ্ছেন, তার ওপর আপনার সাফল্য প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করে।
ঢিলেমি করে আপনি কতটা সময় নষ্ট করেছেন, তার হিসাব দেয়া বেশ কঠিন। কিন্তু এর ফলে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা বোধহয় আন্দাজ করতে পারছেন।
এক মিনিট, এক ঘন্টা করে সময় নষ্ট করতে করতে আপনি বুঝতেও পারেন না যে দশ বছরের মাঝে আপনি হয়তো চার বছর নষ্ট করে ফেলেছেন। এই সময়টি কাজে লাগাতে পারলে আপনি এখন যেখানে আছেন, তারচেয়ে চার বছর এগিয়ে থাকতে পারতেন।
একটি সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন, আপনি ঢিলেমির কারণে ঠিকমত পড়াশুনা করেননি।৪ বছরের কোর্স শেষ করতে আপনার ৬ বছর লেগেছে।
পাশ করে বের হয়ে আপনি একটি চাকরিতে যোগ দিলেন। এক বছর পর আপনার বেতন হল ৩০০০০ টাকা। কিন্তু দুই বছর আগে যদি আপনি চাকরিতে যোগ দিতেন এতদিনে ৫০০০০ টাকার মত বেতন হত আপনার।
এই ২ বছর কিন্তু আপনি আর ফিরে পাবেন না। দু’টি বছর নষ্ট না করলে আপনার জীবন এখনকার চেয়ে আরও অনেক স্বাচ্ছন্দ্যময় হত।
এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নষ্ট করা সময় আমাদের পিছিয়ে দেয়। আমাদের স্বপ্নগুলোকে দূর থেকে দূরে নিয়ে যায়। অনেকে মাত্র একটা বছর সময় না পাওয়ার কারণে স্বপ্নের অনেক কাছাকাছি এসেও তা পূরণ করতে পারে না।
ভেবে দেখুন, ৭দিন সময় আছে বলে আপনি কাজ শেষ না করে ৬ দিন ফেলে রাখলেন, এবং শেষ দিনে গিয়ে কাজটি কোনওরকমে শেষ করলেন। এই কাজটি যদি আপনি প্রথম এক দিন বা দুই দিনে শেষ করে ফেলতেন, তবে অন্য কাজের জন্য আপনার হাতে সময় থাকতো। নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এই সময়টা আপনি কাজে লাগাতে পারতেন।
যখন আমাদের সামনে কোনও কাজ থাকে, তখন আমরা অন্য কাজে পূর্ণ মনযোগ দিতে পারি না। আর এই কারণে, হাতে কাজ রেখে ঢিলেমি করলে আসলে অন্য কোনও কাজও করা হয়না। এর বেশিরভাগ সময়টাই বেকার নষ্ট হয়। এই সময়টা সাধারণত মানুষ বিনোদন বা আলস্য করে কাটায়।
চিন্তা করে দেখুন, ফুটবল খেলায় কোনও দল জিতলে আপনার সত্যিকার কোনও লাভ আছে কি? গেম অব থ্রোনস এ কোন চরিত্র মরল বা বাঁচলো, তাতে আপনার জীবণে কি প্রভাব পড়ছে? একটি সিনেমা বা সিরিজের একটি পর্ব বার বার দেখা, সেটার রিভিউ দেখা, রি-এ্যাকশন ভিডিও দেখলে আপনার কি উপকার হচ্ছে? কোন সেলিব্রেটি কার সাথে কি করল, তাতে আপনার কি? সে আপনার কি হয়? রিয়েলিটি শো এর বিজয়ী কি তার পুরুস্কার আপনার সাথে ভাগ করবে?
ঢিলেমির সময়টা সাধারণত এসব বিষয়ের পেছনেই কাটে। আর তাতে করে আপনার হাতে থাকা মূল্যবান সময়ই শুধু নষ্ট হয়। যা কাজে লাগালে আপনি নিজেও হয়তো আপনার ক্ষেত্রের সেলিব্রেটি হয়ে যেতে পারতেন।
কাজেই সময়ের মূল্য দিন। অলস বসে থাকা, বা খেলা ও বিনোদনের পেছনে নষ্ট করার চেয়ে আপনার সময় অনেক বেশি মূল্যবান।
যখন খুব বেশি দেরি হয়ে যাবে, তখন নিজেই আফসোস করবেন, যে দিনে একটা ঘন্টা বেশি পড়লে, কাজটি আর একটু আগে করলে, সিরিজ দেখার নেশা বাদ দিলে হয়তো জীবনটা অন্যরকম হত। কিন্তু মানুষ সময় ফিরিয়ে আনতে পারে না। কাজেই সময় থাকতেই সচেতন হোন। ঢিলেমি করে সময় নষ্ট করবেন না।

০২. অনেক ভালো সুযোগ নষ্ট হবে
-----------------------------------
ভেবে দেখুন তো, আজ পর্যন্ত কত সুযোগ আপনি ঢিলেমি করে হাতছাড়া করেছেন? আপনার হাতে হয়তো সুযোগ ছিল বাইরের কোনও একটা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ পাওয়ার। হাতে কয়েকদিন সময় ছিল পেপার রেডি করার।
কিন্তু আজ করি, কাল করি করে আর তা করা হয়ে ওঠেনি। এখন হয়তো আপনি আফসোস করেন, একটি এ্যাকটিভ হলে হয়তো সুযোগটি আপনি পেয়ে যেতেন।
সময় মত চেষ্টা করলে হয়তো আপনি ব্যর্থও হতে পারতেন, কিন্তু এভাবে সারাজীবন আফসোস করতে হত না।
ঢিলেমি করে আমরা ছোট বড় অনেক সুযোগই নষ্ট করি, যেগুলো হয়তো আমাদের জীবনের গতিপথই বদলে দিতো।

০৩.আপনি লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন না
-----------------------------------
যখন আমরা সামনে কোনও লক্ষ্য ঠিক করে নিজের অবস্থা পরিবর্তন করতে চাই, বা বড় কিছু অর্জন করতে চাই, তখনই ঢিলেমি তার সেরা পারফর্মেন্স দেখায়।
আমরা হয়তো সত্যিই লক্ষ্যটি অর্জন করতে চাই, কিন্তু কি কারণে যেন প্রথম পদক্ষেপটিই নেয়া হয় না।
এটা সাধারণত খুবই দ্বিধাজনক একটি বিষয়। আপনি হয়তো এটাও চিন্তা করবেন, “এত আন্তরিক ভাবে চাওয়ার পরও কেন আমি এটা শুরু করতে পারছি না?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আপনার নিজের ব্যাপারে আরেকটু গভীর থেকে চিন্তা করতে হবে।
আমরা লক্ষ্য ঠিক করি, কারণ কোনও না কোনও দিক দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে আরেকটু উন্নত করতে চাই। ঢিলেমির কারণে যদি আপনি কাজ না শুরু করতে পারেন, তবে আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থেকে যাবেন। আপনার নিজের বা জীবনের কোনও উন্নতি হবে না।
লক্ষের দিকে কাজ শুরু করতে আপনাকে আপনার ঢিলেমির কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এটা কি কোনও ভয়, যে আপনি হয়তো সফল হবেন না? অথবা অন্য কেউ আপনার ওপর হতাশ হবে ভেবে আপনি কাজকে দীর্ঘায়িত করছেন?
কারণ যেটাই হোক, আপনার লক্ষ্য পূরণের চেয়ে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাজেই কারণটি খুঁজে বের করে ঢিলেমির চক্র থেকে বের হয়ে আসুন। নাহলে আপনি লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন না।
কোনও কাজে সফল হওয়ার জন্য সেটা শুরু করা সবার আগে জরুরী। ঢিলেমির কারণে সেটাই করা হয় না। কাজ করলে হয়তো আপনি সফল হবেন, অথবা ব্যর্থ হবেন। কিন্তু যদি শুরুই না করেন, তবে নিশ্চিত ভাবেই আপনি ব্যর্থ হবেন।

০৪. আপনার ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে
-----------------------------------
আপনি যেভাবে কাজ করবেন, তা সরাসরি কাজের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। আপনি একটি কাজ থেকে কতটা লাভ করতে পারবেন, কতটা অর্জন করতে পারবেন – তা নির্ভর করে আপনার কাজের ধরনের ওপর।
দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আপনার কাজ যতটা ভালো হওয়ার কথা, তা কখনওই হয় না। ঢিলেমির কারণে কাজ ফেলে রাখতে রাখতে তা একদম শেষ সময়ে গিয়ে ঠেকে। আর তখন আপনাকে তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করতে হয়। এতে কাজের কোয়ালিটি বা মান কখনওই ভালো হয় না, যতটা হতে পারত কাজটি ধীরেসুস্থে করলে।
আপনি হয়তো দারুন দক্ষ একজন সেলসম্যান। সেটা আপনার বসরাও জানেন। আপনার দক্ষতার কারণেই তাঁরা আপনাকে হায়ার করেছেন। কিন্তু ঢিলেমি করে করে যদি আপনি প্রতি মাসেই একদম শেষে এসে রিপোর্ট দেন, মাঝে মাঝেই টার্গেট মিস করেন – তবে কি তাঁরা আপনাকে কাজে রাখবেন?
আপনার এই ঢিলেমির স্বভাব হয়তো আপনি প্রথম কিছুদিন লুকিয়ে রাখতে পারবেন, কিন্তু অনেক কিছু যখন জমে যাবে – এবং আপনি ঠিকভাবে কাজ করতে পারবেন না – তখন আপনার ক্যারিয়ারের কি অবস্থা হতে পারে?
আপনি যতই মেধাবী ছাত্র হন না কেন, সারা টার্ম পড়াশুনা না করে সময় নষ্ট করে পরীক্ষার আগ দিয়ে নাকে মুখে পড়ে কখনওই ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন না। লেখাপড়ায় আপনার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার তো নষ্ট হবেই, কর্মক্ষেত্রেও এই স্বভাব আপনাকে পিছিয়ে রাখবে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার তখন ঘটে যখন বিভিন্ন কাজ একসাথে জমে যায়।
ধরুন, আপনাকে দশ দিনের ভেতরে তিনটি রিপোর্ট দিতে হবে। আপনার কাছে রিপোর্ট তৈরীর জন্য সমস্ত তথ্য আছে, সময়ও আছে। আপনি করলেন কি, আজ করব, কাল করব করে আট দিন কাটিয়ে দিলেন। এখন দুই দিনে ভিন্ন ভিন্ন তিনটি রিপোর্ট তৈরী করা কি সম্ভব? আপনি হয়তো বলবেন অসম্ভব না। আপনার কথা মেনে নিয়েই বলছি, রিপোর্টগুলোর মান অবশ্যই খুবই নিন্মমানের হবে।
শুধুমাত্র এই ঢিলেমির কারণে বহু প্রতিভাবান ও দক্ষ মানুষ ক্যারিয়ারে এগুতে পারেননি।
আপনিও ভেবে দেখুন, এভাবে অফিসের কাজ আপনিও ফেলে রাখেন কিনা। যদি এই স্বভাব আপনার মাঝে থেকে থাকে, তবে এখনই এই অভ্যাস বদলে ফেলুন।
নাহলে আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

০৫. আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট হবে
-----------------------------------
আগেই বলেছি, ঢিলেমির কুফল একটা সময়ের আগ পর্যন্ত বোঝা যায় না। মনে হয় সব ঠিকমতই চলছে। কিন্তু যখন চারদিক থেকে আপনার ওপর চাপ আসতে শুরু করবে – তখন পালিয়ে বাঁচার জায়গা খুঁজে পাবেন না।
একের পর এক খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ার পর আপনি নিজেকেই হয়তো প্রশ্ন করতে শুরু করবেন, “আমার সমস্যাটা কোথায়?” , “কেন আমি কাজ করতে পারছি না?”
এভাবে চললে ধীরে ধীরে আপনি আত্মবিশ্বাস হারাতে থাকবেন। যে কাজে আপনি সবচেয়ে বেশি দক্ষ, সেই কাজ করতেও দ্বিধায় ভুগবেন।
দীর্ঘসূত্রিতা আত্মবিশ্বাসকে কুরে কুরে খায়। এটা ঘটে খুব ধীরে, কিন্তু এটা নিশ্চিত ভাবেই ঘটে।
যদি দেখেন যে আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে, তাহলে খুব ভালো করে ভেবে দেখুন আপনার মাঝে এই ঢিলেমির স্বভাব আছে কিনা। যদি থাকে তবে যখনকার কাজ তখন করা শুরু করুন। হাতে যদি দুই দিন থাকে, তবে কালকের জন্য অপেক্ষা না করে আজই শুরু করুন।
হয়তো প্রথমে নিজের ওপর ভরসা পাবেন না। কিন্তু জোর করে কাজ করতে থাকলে, একটা সময়ে হারানো আত্মবিশ্বাস আবার ফিরে পাবেন। কিন্তু যদি ঢিলেমি করতেই থাকেন, তবে অচিরেই আপনার আত্মবিশ্বাস একদম তলানীতে ঠেকে যাবে।

০৬. আপনি বেশিরভাগ সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন
-----------------------------------
সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ ঢিলেমি করে। মনে করুন, একটি কোর্স কোথায় করবেন সিদ্ধান্তে আসতে ভাবনা চিন্তা ও খোঁজখবর করার জন্য হয়তো আপনার হাতে পুরো একটি দিন ছিলো। কিন্তু আপনি সারাটা দিন অনর্থক সময় নষ্ট করে একদম শেষ মূহুর্তে সিদ্ধান্ত নিলেন। যদি ভালোমত খোঁজখবর নিয়ে, ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতেন, তবে সেরা জায়গাটিতে ভর্তি হতে পারতেন – কিন্তু এখন আর তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না।
আমরা সবাই জানি, ভাবনা চিন্তা করে নেয়া সিদ্ধান্ত আর হঠা‌ৎ করে নেয়া সিদ্ধান্তের মাঝে অনেক তফা‌ৎ। অল্প সময়ে নেয়া সিদ্ধান্ত বেশিরভাগ সময়েই ভুল সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণিত হয়।
এই সময়ে মানুষ যুক্তি ও তথ্যের বদলে তা‌ৎক্ষনিক আবেগ অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়। এবং কোনওকিছুর একদম শেষ মূহুর্তে আমাদের মাথা ঠান্ডা থাকে না। এই সময়ে মানুষ থাকে নার্ভাস ও বিরক্ত। সেই কারণে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে আসে।

০৭. আপনার সুনাম নষ্ট হবে
-----------------------------------
ভালো একজন মার্কেট রিসার্চার হিসেবে সোহাগ সাহেবের বেশ নামডাক আছে। তিনি বিদেশ থেকে পড়াশুনা করে এসেছেন। অনেক বড় বড় কোম্পানী তার কাছে কনসালটেন্সি নিতে আসে। আয় রোজগার, কাজকর্ম ভালোই চলছিল।
কিন্তু হঠা‌ৎ করে তাঁর মাঝে ঢিলেমির স্বভাব দেখা দিল। শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত আরাম আয়েশের ফলে তাঁর মাঝে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। আগে যে কাজ তিনি এক মাসে করতেন, ইদানিং তা করতে তাঁর দেড়-দুই মাস লেগে যায়।
তারপরও তার কাছে ক্লায়েন্ট আসতো, তার সুনাম ও দক্ষতার কারণে। কিন্তু কাজ ফেলে রাখার কারণে তার হাতে বেশ কিছু কাজ জমে যেতে লাগল, এবং কোনওটাতেই তিনি আগের মান ধরে রাখতে পারলেন না। সেই সাথে ধীরে ধীরে তিনি সময়মত কাজও জমা দিতে পারছেন না।
ধীরে ধীরে মার্কেটে তার দুর্নাম ছড়িয়ে গেল। এবং একটা সময়ে গিয়ে দেখা গেল, তার কাছে আর কেউ আসতে চাইছে না।
যখন আপনি মানুষকে একটি কাজ করার কথা বলে সেটি করবেন না, সেটা নিজের জন্যই হোক বা অন্যের জন্য, আপনার প্রতি মানুষের ভরসা ও সম্মান কমে যাবে। এবং এটা দারুন ভাবে আপনার সুনাম নষ্ট করবে।
মানুষ দিন শেষে ফলাফল দেখতে চায়, আপনি যতই দক্ষ ও প্রতিভাবান হোন না কেন, যদি সময়মত ভালো মানের কাজ দিতে না পারেন, আপনাকে কেউ দাম দেবে না। আপনার হাতে আসা সুযোগের পরিমান কমে যাবে, কাজ কমে যাবে। এর সাথে সামাজিক ভাবেও আপনি আপনার জায়গা হারাবেন। কারণ, ঢিলেমির স্বভাব হয়ে গেলে আপনি যেমন কাজের ক্ষেত্রে দেয়া কথা রাখতে পারবেন না, তেমনি সাধারন ভাবেও কোনও প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন না। কাজেই নিজের সম্মান বাঁচানোর জন্য হলেও ঢিলেমি বন্ধ করুন।

০৮. আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাঝে পড়বে
-----------------------------------
একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার শরীর। শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে, আপনার জন্য যে কোনও কাজ করা সম্ভব। যে কোনও ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব। শরীর শেষ, তো আপনার সম্ভাবনাও শেষ। সেইজন্যেই বলা হয় “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল”
আর শরীরের সুস্থতার মত মনের সুস্থতাও একজন মানুষের সর্বোচ্চ সফলতা পাওয়ার জন্য জরুরী।
দীর্ঘসূত্রতার ফলে বিভিন্ন ধরনের এ্যাংজাইটি ও স্ট্রেস সম্পর্কিত মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
কাজ জমা দেয়ার বা শেষ করার সময় কাছাকাছি আসলেই আপনার ওপর মানসিক চাপ পড়বে – এবং এই চাপের মাঝে নিয়মিত কাজ করতে করতে এইসব মানসিক সমস্যা স্থায়ী সমস্যায় পরিনত হয়। আর এসব সমস্যা থেকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ – ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়াটা খুবই স্বাভাবিক।
আবার, ৩০ বছর বয়স হওয়ার পর প্রতিটি মানুষেরই রুটিন করে চলা উচি‌ৎ। সময়মত ঘুমাতে যাওয়া, সময়মত ওঠা; নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করা, পরিমিত খাবার খাওয়া – এসব স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য খুব জরুরী। এই সময়ে যদি এগুলো মেইনটেন করা না হয়, তবে কিছুদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে।
আপনি যখন ঢিলেমিতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। তখন শেষ মূহুর্তে কাজ করার জন্য আপনাকে প্রায়ই রুটিন ভা‌ঙতে হবে। পরিমিত ঘুম ও খাওয়া হবে না।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে টানা চব্বিশ ঘন্টা বা তারও বেশি কাজ করার নজির আছে। এই সময়টাতে ফাস্টফুড, চা-কফি, ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিংক – ইত্যাদি বেশি খাওয়া হয়। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার ওজন বাড়বে।
না ঘুমিয়ে কাজ করার ফলে মস্তিষ্কে প্রচন্ড্র চাপ পড়ে। প্রথম দিকে হয়তো আপনার গর্বই হবে যে আপনি এতটা ‘স্ট্রং’। বন্ধুবান্ধবদের হয়তো গর্ব করে আপনার কাজের গল্প বলবেন। তবে বছরখানেক এভাবে চললেই আপনার কাজের ক্ষমতা ভয়াবহ আকারে কমে যাবে।
এছাড়া, এইসব পরিস্থিতিতে যারা ঘন্টার পর ঘন্টা টানা চেয়ারে বসে কাজ করেন, বছরখানেকের মাঝেই তাদের ব্যাকপেইনের মত বাজে অসুখ হয়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অথবা ফিটনেস যদি একবার নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা ফিরিয়ে আনাটা সত্যিই খুব কষ্ট। আর এটা নষ্ট হয়ে গেলে আপনার সামনের দিনগুলোতে কোনও কাজ ঠিকমত করতে পারার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। সর্বোপরি, আপনার ক্যারিয়ার, জীবন, অর্থনৈতিক অবস্থা – সবই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৩০ বছর হওয়ার আগে হয়তো আপনার ওপর এটা তেমন একটা প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু এই বয়সটা পার হয়ে গেলে একে একে এর ফলাফল দেখতে পারবেন। কাজেই আপনার বয়স যদি ৩০ এর কম হয় তবে সতর্ক হোন। তারুণ্যের কারণে এটা আপনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারছেনা হয়তো, কিন্তু পরে আফসোস করবেন। আর আপনার বয়স ৩০ পার হয়ে গেলে এই মূহুর্তে ঢিলেমি করে কাজ ফেলে রেখে শেষ মূহুর্তে নাকে মুখে কাজ করা বন্ধ করুন।
ঢিলেমি বা দীর্ঘসূত্রিতার সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর দিক সম্ভবত এটাই। একজন মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেলে, তার জীবনের অর্ধেকই শেষ। দিন শেষে সুস্থ শরীরই মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে দাঁড়ায়।
পরিশিষ্ট
আপনাকে শেষ করতে এই একটি বদ অভ্যাসই যথেষ্ঠ। আগেই বলেছি, বহু সম্ভাবনাময় মানুষের জীবন শুধু এই একটি কারণে ডানা মেলতে পারেনি। আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান, তবে খুব ভালো করে দেখুন আপনার মাঝে এই ঢিলেমির রোগ আছে কি না। যদি থাকে, তবে আজই এটা বন্ধ করুন। একবারে হয়তো হবে না, তবে ধীরে ধীরে আপনি এই চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।
এই চক্র থেকে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে আমাদের ”সকালে ঘুম থেকে ওঠা এবং আরও কিছু জরুরী অভ্যাস সহজে রপ্ত করবেন যেভাবে” – লেখাটি আপনার কাজে আসতে পারে।

Collected

০১. mathematics শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ mathema […]

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তনঃ - কৃষিকার্যে প[…]

বাংলাদেশের পরিবেশঃ - ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে[…]

অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ - এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম […]

মোবাইল থেকে বিডিচাকরি খুব সহজে ব্যবহার করার জন্য