Let's Discuss!

সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য
#3733
১২.১০.২০২০
ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
ইত্তেফাক
মুক্তির মহানায়ক বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জীবন্ত কিংবদন্তি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ পূরণের পথে অদম্য গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই তিনি সুনিপুণ বিচক্ষণতা ও নির্ভীক সাহসীকতায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানাবিধ সঙ্কট মোকাবেলায় অনন্য সাফল্যের জন্য বিশ্বনন্দিত অন্যতম রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায় সমাসীন হয়েছেন। করোনার দুঃসময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের ভয়াবহ বিস্তার ও নির্দয় প্রাণ সংহারে ক্ষত-বিক্ষত মানব হৃদয়ের করুণ অনুরণন ও সম্ভাব্য দ্বিতীয় তরঙ্গের ভয়াবহ পূর্বাভাসকে ধারণ এবং ভয়কে জয় করে স্বাজাত্য ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে দেশবাসীকে আতঙ্ক ও আশঙ্কামুক্ত করেছেন। একদিকে অসহায় মানবিক বিপর্যয়, অন্যদিকে দানবরূপী হিংস্র কতিপয় অর্থ-ক্ষমতা-সম্পদলিপ্সু কুৎসিত মানুষের কদর্য মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতিসহ দুর্বৃত্তায়নের অশুভ চক্র নির্মূলে তাঁর কঠোর অবস্থান সর্বত্রই সমাদৃত।
বাঙালী জাতি-রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সুগভীর আস্থা ও বিশ্বাসের অর্চনীয় স্মারক বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচল অর্থনীতি’ দর্শনকে পরিপূর্ণতা দানে অবশ্যই সফল হবেন। আমরা সবাই ‘করোনা জয় ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির’ নতুন বিজয় পতাকা উড্ডীন করে সমস্বরে আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পুরোধা কবি জীবনানন্দ দাশের ‘শঙ্খচীল’ ’কবিতার পংক্তি উচ্চারণের প্রত্যাশায় রয়েছি- ‘আমাদের দেখা হোক মহামারী শেষে,/ আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে।/ আমাদের দেখা হোক জীবাণু ঘুমালে,/ আমাদের দেখা হোক সবুজ সকালে।/ আমাদের দেখা হোক কান্নার ওপারে,/ আমাদের দেখা হোক সুখের শহরে।/ আমাদের দেখা হোক হাতের তালুতে,/ আমাদের দেখা হোক ভোরের আলোতে।/ আমাদের দেখা হোক বিজ্ঞান জিতলে,/ আমাদের দেখা হোক মৃত্যু হেরে গেলে।/ আমাদের দেখা হোক আগের মত করে।/ আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে...।’
আমরা সম্যক অবগত আছি যে, বর্তমান বিশ্বসমাজ সকল ধর্ম-বর্ণের বিভাজন বিনাশ করে মানবিকতার আরাধ্য বৈশিষ্ট্যে অধিকতর নন্দিত। সমগ্র বিশ্ব বর্তমান সময়ে অবরুদ্ধ সমাজের অচলায়তনকে নিধন করে মুক্ত শ্রেণিভিত্তিক সমাজে অবাধ চিন্তা-চেতনা, তথ্য-প্রবাহ সঞ্চারণে সকলের বাকস্বাধীনতা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান সৃজন ও বিতরণে নানা মাত্রিকতায় সমধিক ভাস্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রগতির সকল সূচকে অনবদ্য অর্জনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বস্বীকৃত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্যোগ মোকাবেলায় সাফল্যের গৌরবগাথা এবং এর ধারাবাহিকতায় অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত রোলমডেল। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস, খরা, নদী ভাঙ্গন, নদীর নাব্যহীনতা, অগ্নিকান্ড, আর্সেনিক ইত্যাদির প্রভাবে বিপর্যস্ত করোনা-অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবাসহ নানাবিধ উদ্ভূত দুর্যোগ প্রতিরোধে প্রায়োগিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নে বহুলাংশে সফলতার দৃশ্যপট বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসী প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছেন।
সরকার, দল, তরুণ ও কিশোরসহ আপামর জনসম্পৃক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অনন্য অধ্যায় রচনা করেছে; যা অন্য রাষ্ট্রের জন্য ইতোমধ্যেই গ্রহণযোগ্য ও শিক্ষনীয় হয়ে উঠেছে। প্রাণ-সম্পদ-দুর্ভোগ-দুর্গতিসহ যাবতীয় ক্ষয়-ক্ষতির উদ্ধার কর্মযজ্ঞে দ্রুততর সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তার প্রতিফলন বিশ্বব্যাপী পরাগত হয়েছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন দুর্যোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিশ্ব অভিযোজন কেন্দ্র- ঢাকা অফিস’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে দুর্যোগ বিষয়ে স্থায়ী নির্দেশাবলী ২০১০ সালে হাল নাগাদ করে ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল’ গঠন এবং ২০১২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন ও এই আইনের আওতায় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর’ গঠন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ঝুঁকি হ্রাস ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুহারা মানুষের দুর্দশা লাঘবে ২০১৫ সালে প্রণীত কৌশলপত্র এবং ‘ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত ‘মুজিব কেল্লা’ খ্যাত ১৭২টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের অভিজ্ঞতায় দুর্যোগ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের আমলে ৩৭৮ টি মুজিব কেল্লা, উপকূলে ৩৮৬৮টি বহুমুখী ও ১৬৫০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ, ৫৬ হাজার প্রশিক্ষিত ও ৩২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক, ২৪ লক্ষ আনসার ভিডিপি, ১৭ লক্ষ স্কাউটস, ৪ লক্ষ বিএনসিসি, প্রায় ৪ লক্ষ গার্লস-গাইডের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে অভূতপূর্ব কর্মপরিকল্পনা অসহায় মানুষের হৃদয়ে অবর্ণনীয় প্রাণশক্তি সঞ্চার করেছে। ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ প্রণয়নের প্রাথমিক কর্মকৌশল ও বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে দেশবাসীকে উজ্জ্বীবিত করেছে। সম্প্রতি ১১ হাজার ৬ শত ৪টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ির উদ্বোধন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিস্ময়কর সম্ভাবনাকে সমধিক উজ্জ্বল করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) অসাধারণ একটি দলিল। ঝুঁকিহ্রাস ও অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যবস্থাপনার কৌশলপত্রে ভিশন-মিশন চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। সরকারের ব্যতিক্রম ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী ৩৪টি প্রধান উদ্দেশ্য তথা ২০১০-২০১৫ সালে প্রণীত জাতীয় পরিকল্পনা পর্যালোচনা, নগর-জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা, নারীর অংশগ্রহণ, তথ্য-উপাত্তের সরবরাহ ও যৌক্তিক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। সামগ্রিক তদারকি-সমন্বয় ও আদেশ-নির্দেশ ব্যবস্থা, জনবান্ধব পরিকল্পনা ও প্রচার, আইনগত দিক বিবেচনায় পরিকল্পনা উন্নয়ন প্রক্রিয়া, পরিবর্তনশীল ঝুঁকি পরিবেশ ও পূর্বে উল্লিখিত নানা প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্য-সম্পদ-প্রাণ বিপর্যয়ের বিষয়সমূহকে প্রাধান্য দিয়ে অগ্রাধিকার ১,২,৩,৪ এর ভিত্তিতে উক্ত দলিল তৈরি হয়েছে। সততা-স্বচ্ছতা-জবাবদিহির উপচর্যায় সমুদয় কর্মকৌশলের এই ব্যবস্থাপত্র সরকারের অসামান্য অবদানের মাইলফলক।
সম্প্রতি পরিবর্তনশীল জলবায়ুর দুঃসহ প্রভাব থেকে পৃথিবী নামক গ্রহ এবং নাগরিকদের সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ক্লাইমেট এ্যাকশন’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার প্রস্তাবনা ছিল যুগান্তকারী। ২৫. ০৯. ২০২০ দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকা জনকণ্ঠে’র প্রতিবেদন অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো ছিল ‘পৃথিবী ও মানবজাতির সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কম রাখা এবং প্যারিস চুক্তির সব অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহ করা, দূষণকারী দেশগুলোকে অবশ্যই জাতীয় নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) পূরণে প্রয়োজনীয় প্রশমন ব্যবস্থা নেয়া ও জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন বৈশ্বিক দায়িত্বের স্বীকৃতি দেয়া।’ প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত প্রস্তাবগুলোর যথার্থ বাস্তবায়নে জোরালো সুপারিশও উপস্থাপন করেছেন।
জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন, সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তথা ঘূর্র্ণিঝড়-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের প্রশিক্ষণ, ‘রিপ’ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষকে দুর্যোগ থেকে নিরাপদ এবং জীবন যাপনের প্রকৃষ্ট নিরাপত্তা ও সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক ফেমি ওকে’র সঞ্চালনায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সভাপতিত্বে ৯০ মিনিটের এই সভায় যুক্তরাজ্য-কানাডা-ইতালি-চিলি-নাইজেরিয়া-ফিজি-ইউরোপীয় কমিশন-ভুটানের প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টসহ উচ্চ পদস্থ সরকারী-বেসরকারী-সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহের গুরুত্ব অনুধাবন করে সুবিবেচনার জন্য বিশ্ব নেত্রীবৃন্দের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
এটি সর্বজন স্বীকৃত যে, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষই মানব জাতি-মানবিকতা-মনুষ্যত্ব, নীতি-নৈতিকতা, সত্য-সততা-ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায় ও প্রতিবন্ধক সৃষ্টি এবং ধ্বংস-মরণাস্ত্র তৈরি করে। পাহাড়-সমুদ্র-জীবজগৎ-উদ্ভিদজগৎ-জীব বৈচিত্র-ভৌগোলিক বৈচিত্র-মরুভূমি-হিমাচল-বনজসম্পদ-নদী-জলাশয়সহ জীবন ধারণে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গগুলোকে শুধুমাত্র ব্যক্তি-গোষ্ঠী স্বার্থে অবলীলাক্রমে নিষ্ঠুর পন্থায় পরিবেশ-প্রতিবেশ সংহারে পুরোবিশ্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসব নরপশুতুল্য হিংস্র দানবদের সমূলে নির্মূল করা না গেলে সমগ্র বিশ্বে আগামী প্রজন্ম আমাদের এই দায়ভাগের জন্য কঠিন শাস্তির কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সময় ক্ষেপণ না করে উল্লেখিত বিষয়গুলোকে নিগূঢ় ধারণা ও উপলব্ধিতে এনে এসব সঙ্কট পরিহারে মানবজাতিকে উজ্জীবিত করতেই হবে। বিশ্ব মানবিকতা-সত্যবাদিতা-সৃজনশীলতা-মননশীলতা ও পরিপূর্ণ পরিবেশবান্ধব বিশ্ব গড়ার ব্রত নিয়ে সকলের সমন্বিত প্রয়াস সত্য-সুন্দর-কল্যাণ ও আনন্দের আধুনিক মঙ্গলময় বিশ্ব সংস্কৃতির অবগাহন সময় ও যুগের প্রধান দাবি।
লেখক : শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সংগৃহীত:-

    ১. ডিজিটাল প্রতারণার সাজা ৫ বছর বা ৫ লক্ষ বা উভয় […]

    ১. বিশ্বে চার ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে[…]

    ১. ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত[…]

    যদি স্বাধীনতা বলতে কিছু বোঝায়, তবে এর অর্থ লোকেরা[…]