Let's Discuss!

বাংলা ব্যাকরণ বিষয়ক আলোচনা
#1458
ভাষা, জাতির নামে কার হয় ‘ই’
অপ্রাণী, ইতরপ্রাণী তা-ও জেনেছি,
উভয় ক্ষেত্রে ই-কার নিশ্চিত জানি
সংস্কৃতের স্ত্রী ঈ-কার মানি।
বিদেশি শব্দে ‘ষ’ হবে না কখনো
তৎসম ভিন্ন শব্দে ‘ন’ হয় জেনো,
রেফ থাকলে বর্ণে দ্বিত্ব না-হয়
অন্তে বিসর্গ বর্জন জানিবে নিশ্চয়।
জগৎ-বাচক-বিদ্যা-ত্ব-তা-নী-ণী হলে
শব্দান্তের ‘ঈ’ ই-কার হয় সৌমিত্র বলে।
ব্যাখ্যাঃ
১. যে-কোনো দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ-কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার দেয়া যাবে। যেমনঃদেশঃ গ্রিস, জার্মানি, চিন, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি। ব্যতিক্রমঃ মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা। সম্ভবত কারণ এগুলো ইংরেজি নামের প্রতিবর্ণায়ন নয়।ভাষাঃ হিন্দি, সাঁওতালি, আরবি, পারসি ইত্যাদি।জাতিঃ বাঙালি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।
২. অপ্রাণিবাচক শব্দে ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে। যেমনঃঅপ্রাণিবাচক শব্দঃ বাড়ি, গাড়ি, চাবি, শাড়ি ইত্যাদি।ইতরপ্রাণিবাচক শব্দঃ পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।
৩. সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে। যেমনঃ জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী।
৪। বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না। যেমনঃ ষ্টেশন হবে, হবে স্টেশন। এরূপ স্টুডিও, ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।
৫. তৎসম বা সংস্কৃত কতিপয় শব্দ ছাড়া অন্য সব শব্দের বানানে ‘ণ’ হবে না, হবে ‘ন’। যেমনঃ কর্ণার হবে না, হবে কর্নার। কর্ণেল হবে না, হবে কর্নেল। বামুণ হবে না, হবে বামুন।
৬. বানানে যে বর্ণের উপর রেফ থাকবে, সেই বর্ণে দ্বিত্ব হবে না। যেমনঃ কার্য্যালয় হবে না, হবে কার্যালয়। নির্দ্দিষ্ট হবে না, হবে নির্দিষ্ট।
৭. বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমনঃ বাঃ/ ছিঃ/ উঃ ইত্যাদি) ছাড়া বাংলা শব্দের শেষে বিসর্গ রাখা যাবে না। যেমনঃ প্রায়শঃ/ বিশেষতঃ/ কার্যতঃ/ প্রথমতঃ ইত্যাদি লেখা যাবে না, লিখতে হবে প্রায়শ/ বিশেষত/ প্রথমত ইত্যাদি।
৮. কোনো শব্দের শেষে ঈ-কার থাকে, সেই শব্দের সঙ্গে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি যুক্ত হয়ে যদি যদি নতুন শব্দ গঠন করে, তবে পূর্ববর্তী শব্দের ঈ-কার নবগঠিত শব্দে সাধারণত ই-কারে পরিণত হয়।যেমনঃপ্রাণী+বিদ্যা= প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিজগৎ, মন্ত্রিসভা, প্রাণিবাচক, মন্ত্রিপরিষদ, কৃতিত্ব, স্থায়িত্ব, দায়িত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সহমর্মিতা, বাগ্মিতা, সঙ্গিনী, তপস্বিনী, অধিকারিণী, প্রতিহারিণী, আদরিণী ইত্যাদি।
৯। শব্দে উর্ধ্বকমা লেখা যাবে না।যেমনঃ হ’ল → হল, দু’টি → দুটি, তা’র → তার ইত্যাদি।

Collected
Similar Topics
Topics Statistics Last post
0 Replies 
807 Views
by raihan
Thu Sep 12, 2019 3:45 pm
0 Replies 
132 Views
by tumpa
Tue Aug 04, 2020 7:56 pm
0 Replies 
141 Views
by tumpa
Tue Aug 04, 2020 7:58 pm
0 Replies 
56 Views
by tumpa
Fri Aug 07, 2020 9:55 am
0 Replies 
74 Views
by tumpa
Fri Aug 07, 2020 9:56 am

১। কোনটি শুদ্ধ বানান ক. Tubarculisis খ. Tubarculos[…]

১। সুন্দর ব্যবহার একটি — - প্রবন্ধ ২। সাগরকন[…]

২০। দেশে টিকা উৎপাদন করতে পারে কতটি প্রতিষ্ঠান? উ:[…]

বাংলাদেশ ১৪.০৭.২০২০। মঙ্গলবার - বগুড়া-১ ও যশোর-৬ […]