Let's Discuss!

বিষয় ভিত্তিক প্রস্তুতি : বাংলদেশ ও বিশ্ব, দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি
#268
Glasnost:
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ এই নীতির প্রবর্তক।১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে communist একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় তখন থেকেই communist ব্যবস্থার বা পার্টি ও রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন নেতাদের কাজের বিরোধিতা বা সমালোচনা করার কোনো অধিকার থাকে না ।কিন্তু গর্বাচেভ ক্ষমতায় এসে অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রীয় উভয় ক্ষেত্রেই নাটকীয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ঘোষণা করেন যে, সোভিয়েত জনগন এখন থেকে নির্ভয়ে খোলা খুলিভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন,পারবেন পার্টি ও নেতাদের করুন্মকান্ডেরও সমালোচনা করতে।গর্বাচেভ নিজেই তার এই নীতিকে Glasnost বলে অভিহিত করেন এবং এই নীতি অনুসরণ করার জন্য পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহের প্রতিও আহবান জানান।অনেকটা এই Glasnost নীতির জন্যই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায় এবং সমাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

Perestroika:
১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর লেনিনের নেতৃত্বে সংঘটিত হয় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত রুশ বিপ্লব, যার স্থায়িত্ব ছিল দশ দিন। রুশ বিপ্লবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লেনিনের বলশেভিক দল এ জন্য রুশ বিপ্লবের আর এক নাম বলশেভিক বিপ্লব।তাছাড়া তৎকালীন সময়ে ইংরেজী ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি রাশিয়াতে প্রচলিত ছিল রুশ ক্যালেন্ডার,১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রুশ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছিল ২৫ অক্টোবর এ জন্য রুশ বিপ্লবের আরেক নাম অক্টোবর বিপ্লব। ১৯২২ সালে রাশিয়ার নামকরুনণ হয় USSR বা Union of Soviet Socialist Republic বা সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ছিলেন মিখাইল গর্বাচেভ।তিনি যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তখন সোভিয়েত রাশিয়ায় অর্থনৈতিক অবস্থা খুবইব খারাপ ছিলো। দারিদ্র্যের হার ছিলো ক্রমবর্ধমান, বেকারত্বের হার ক্রমশ বাড়ছিলো,মুদ্রাস্ফীতির পরিমান দিন দিন বাড়ছিলো।তাই মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতি পূনর্গঠনের জন্য পশ্চিমা ধাচের অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করেন যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়,বেকারত্ব হ্রাস পায় এবং মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা যায়।মিখাইল গর্বাচেভ কতৃক ১৯৮৫ সালে ঘোষিত অর্থনৈতিক সংস্কারের এ নীতিই perestroika নামে পরিচিত । তিনি সমাজতান্ত্রিক ঘরনা থেকে বেরিয়ে এসে তার গ্লাসনস্ত নীতির সংগে সঙ্গতি রেখে সোভিয়েত ইউনিয়নের উদারনৈতিক অর্থনীতি প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন । যার ফলে ১৯৮৭ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিস্ট দেশ সমূহে নয়া অর্থনৈতিক হাওয়া বইতে শুরু করে। কিন্তু তৎকালীন কট্টরপন্থী সোভিয়েত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং কেজিবি'র নেতারা গ্লাসনস্ত এবং পেরেস্ত্রইকা নীতির চরম বিরোধিতা করে ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতি আরও দূর্বল হয়ে পড়ে।এমতাবস্থায় ১৯৮৯ সালে সোভিয়েতভূক্ত দেশগুলোতে সমাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় এবং তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হবার আন্দোলনের ডাক দেয়।অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালে গর্বাচেভ পদত্যাগ করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘোষনা করেন, আর এ ঘোষনার মাধ্যমে পৃথিবীতে ১৫ টি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়।আর তখন থেকেই বিশ্বে পুজিবাদ তাদের স্থান পাকাপোক্ত করে ফেলেন যে পুজিবাদ আজ নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে গোটা বিশ্বকে।